infoamaderdin@gmail.com মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ, আটকা ৬ ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট পরীক্ষকের (টিটি) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে চলা এই অবরোধের কারণে অন্তত ছয়টি ট্রেন আটকা পড়ে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।

সকাল ৬টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে রেলক্রসিং এবং আরডিএ ওভারপাসের নিচে রেললাইনের ওপর গাছের শেকড়, বেঞ্চ, বাঁশ ও লাল পতাকা দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহী-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, সকাল ৭টা ৫ মিনিট থেকে বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আটকে রয়েছে। এছাড়া সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে, ঢালারচর এক্সপ্রেস সারদা স্টেশনে, ৫৭ কমিউটার হরিয়ান স্টেশনে, মহানন্দা এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে এবং সিক্স ডাউন ট্রেন শীতলাই স্টেশনে আটকা পড়ে।

আটকে থাকা বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রী সাবিনা খাতুন বলেন, সকাল থেকে ট্রেনে আটকে রয়েছেন তারা। ট্রেনে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রী থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান চান তারা।

জানা গেছে, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহীতে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন টিটিদের বিরুদ্ধে রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করেন। এরপর কয়েকজন টিটি তাকে ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন এবং চলন্ত ট্রেনের দরজার দিকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফোরকান উদ্দীন দাবি করেন, সচেতন নাগরিক হিসেবে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় তার চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি আহত হন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত টিটিকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং ট্রেনে যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে রেলপথ অবরোধ, আটকা ৬ ট্রেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০২৬ ১৪:০৭ পিএম

পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট পরীক্ষকের (টিটি) বিরুদ্ধে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রেলপথ অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকে চলা এই অবরোধের কারণে অন্তত ছয়টি ট্রেন আটকা পড়ে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।

সকাল ৬টা থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে রেলক্রসিং এবং আরডিএ ওভারপাসের নিচে রেললাইনের ওপর গাছের শেকড়, বেঞ্চ, বাঁশ ও লাল পতাকা দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহী-ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, সকাল ৭টা ৫ মিনিট থেকে বনলতা এক্সপ্রেস রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আটকে রয়েছে। এছাড়া সিল্কসিটি এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে, ঢালারচর এক্সপ্রেস সারদা স্টেশনে, ৫৭ কমিউটার হরিয়ান স্টেশনে, মহানন্দা এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে এবং সিক্স ডাউন ট্রেন শীতলাই স্টেশনে আটকা পড়ে।

আটকে থাকা বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রী সাবিনা খাতুন বলেন, সকাল থেকে ট্রেনে আটকে রয়েছেন তারা। ট্রেনে বয়স্ক, শিশু ও অসুস্থ যাত্রী থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির সমাধান চান তারা।

জানা গেছে, সোমবার রাতে ঢাকা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেসে রাজশাহীতে ফেরার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফোরকান উদ্দীন টিটিদের বিরুদ্ধে রসিদ ছাড়া অর্থ আদায়ের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করেন। এরপর কয়েকজন টিটি তাকে ট্রেনের দুই বগির মাঝখানে নিয়ে গিয়ে মারধর করেন এবং চলন্ত ট্রেনের দরজার দিকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ফোরকান উদ্দীন দাবি করেন, সচেতন নাগরিক হিসেবে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় তার চশমা ভেঙে যায় এবং তিনি আহত হন। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।

ঘটনার প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) চার দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্ত টিটিকে অবিলম্বে সাময়িক বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং ট্রেনে যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা রেললাইন অবরোধ করেছে। যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

এদিকে রাকসুর সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

রেল চলাচল স্বাভাবিক করতে প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর