প্রশাসনের চোখের সামনেই পাহাড়খেকোদের তাণ্ডব, ঝিলংজার সড়ক তলিয়ে যাচ্ছে বালু-কাদায়
কক্সবাজারের সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের পশ্চিম হাজীপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি ও বালু সরানোর অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের চোখের সামনেই একটি প্রভাবশালী চক্র নির্বিচারে পাহাড় কেটে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, বালু ও কাদায় তলিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় সড়ক, বাড়ছে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি।
সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাজীপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে মাটি সরানোর কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় পাহাড়খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। এতে একদিকে যেমন প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদও ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে পাহাড়ি পানি স্বাভাবিকভাবে নিচের দিকে প্রবাহিত হলেও পাহাড়ের আকৃতি পরিবর্তন ও নির্বিচারে মাটি কাটার কারণে সেই স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পশ্চিম হাজীপাড়ার বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যাচ্ছে। পাহাড় থেকে নেমে আসা বালু ও কাদা রাস্তার ওপর জমে যান চলাচল ব্যাহত করছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু এবং অসুস্থ রোগীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আবদুল করিম বলেন, “বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের মাটি ও বালু নেমে রাস্তার ওপর জমে যায়। অনেক সময় ঘর থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই প্রশাসন সরেজমিনে এসে বিষয়টি দেখুক।”
আরেক ভুক্তভোগী রেহানা আক্তার বলেন, “রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে শিশুদের স্কুলে যাওয়া এবং রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে গেছে।”
এর আগেও ঝিলংজা ইউনিয়নের দক্ষিণ জানারঘোনা ও দক্ষিণ হাজীপাড়া এলাকায় সড়ক সংস্কারের নামে পাহাড় কেটে বালু ও মাটি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশগত ক্ষতি, ভূমিধসের আশঙ্কা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কক্সবাজারে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস নতুন কোনো ঘটনা নয়। চলতি বর্ষায় সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড়ের প্রাকৃতিক কাঠামো নষ্ট করে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটলে বর্ষার সময় পাহাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে ভূমিধস, জলাবদ্ধতা এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, দিনের পর দিন প্রকাশ্যে পাহাড় কাটা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়? তাদের দাবি, পরিবেশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান, অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, উন্নয়নের নামে কিংবা ব্যক্তিস্বার্থে পাহাড় ধ্বংসের খেসারত শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই দিতে হচ্ছে। তাই ঝিলংজার পশ্চিম হাজীপাড়ার বাসিন্দারা উপজেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: