দিল্লিতে বিক্ষোভে রণক্ষেত্র: পুলিশ-সিজেপি সংঘর্ষে আহত ১১৮ পুলিশ, গ্রেপ্তার ৭০
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ফেইসবুকভিত্তিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় অন্তত ১১৮ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ৭০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় দিনভর দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ এবং সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার দিল্লি পুলিশের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, সরকারি ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা, সরকারি যানবাহন ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
জানা গেছে, ভারতের প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (নিট)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ৬ জুন থেকে আন্দোলন চালিয়ে আসছে ককরোচ জনতা পার্টি।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে যন্তর মন্তর থেকে পার্লামেন্ট অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে কর্মসূচি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশ তাদের অগ্রযাত্রায় বাধা দেয় এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এ সময় পুলিশ মৃদু লাঠিচার্জও করে।
পরে বিক্ষোভকারীরা পুনরায় যন্তর মন্তর এলাকায় জড়ো হয়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে তাদের নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
দিল্লি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আহত ১১৮ জনের মধ্যে সাধারণ কনস্টেবল ছাড়াও স্পেশাল কমিশনার, জয়েন্ট কমিশনার, অ্যাডিশনাল কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার, অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার এবং নারী পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন।
এদিকে পুলিশের লাঠিচার্জে অন্তত ৬০ জন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলেও স্বীকার করেছে দিল্লি পুলিশ। আহতদের কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হলেও বাকিদের মধ্যে অনেকেই এখনও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার পর রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: