মাছের ঘের থেকে জামায়াত নেতার গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার
সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় একটি মাছের ঘের থেকে সুমন (৩৫) নামে এক গাড়িচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২০ জুলাই) সকালে মাগুরা-কৈখালী বিলে ওই মাছের ঘের থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সুমন সদর উপজেলার কৈখালী গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক ছিলেন।
স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দাবি, তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩ নম্বর লাবসা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা মনোয়ার হোসেন মোমিনের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে মাগুরা দায়পাড়া গ্রামের কেসমত আলী নিজের মাছের ঘেরের টংঘরের বাতি নেভাতে গিয়ে ঘেরের পানিতে এক যুবকের বিবস্ত্র মরদেহ ভাসতে দেখেন। পরে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রামবাসীকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয়রা পরে মরদেহটি সুমনের বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনাস্থল থেকে লোহা কাটার দুটি ব্লেড, একটি বাটন মোবাইল ফোন, একটি সিগারেটের প্যাকেট এবং পল্লী বিদ্যুতের ৩৩ হাজার ভোল্টের কাটা বৈদ্যুতিক তার উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সুমনের মৃত্যু রহস্যজনক। তাদের ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চোরচক্র পল্লী বিদ্যুতের তার চুরির সময় তিনি ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকে হত্যা করে মরদেহ ঘেরে ফেলে রেখে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী শেখ কামরুল ইসলাম জানান, ফজরের নামাজের পর কেসমত আলী মাছ ধরতে ঘেরে গিয়ে পানিতে মরদেহটি দেখতে পান। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে সকাল ৯টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহা. মাসুদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পেছনে মূল কারণ কী এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।’

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: