infoamaderdin@gmail.com শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গুর চাপ, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২২ আগষ্ট ২০২৬ ১৬:০৮ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। শনিবার (২২ আগস্ট) পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসাধীন এসব রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৩১ জন, নারী ১৯ জন এবং ৮ জন শিশু (যার মধ্যে ৬ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে) রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ০০ জন হাসপাতালটির বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি—২৩ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশু (১ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে) ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ জন রোগী। ছাড়পত্র পাওয়া এসব রোগীদের মধ্যে ১ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ১ জন শিশু (০০ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে) রয়েছেন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ জন নারী রোগীকে রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে পৌরসভাটির হুজরাপুর, বালুবাগান, পিটিআই, মসজিদপাড়া ও আলীনগর মহল্লা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছেন। পৌরসভার পাশাপাশি শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলা থেকেও প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে আসছেন।

জেলার চারটি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের কথা বললেও বাস্তবে তা চোখে পড়ে না নাগরিকদের। তাদের ভাষ্য- শুধুমাত্র হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়েই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিয়মিত কঠোরভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার হুজরাপুর-পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর। ড্রেন ও নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। মশা মারার ওষুধ ছেটানোর কথা শুনলেও বাস্তবে এলাকাতে কোনো কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি না।

শিবগঞ্জ পৌরসভার ছোটচক এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা ভালো পেলেও মূল সমস্যা তো বাইরে। মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে দিনের বেলাতেও টেকা যায় না। পৌরসভা থেকে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও ওষুধ না দিলে রোগী বাড়তেই থাকবে।নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়।

২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্নার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য উপকরণ মজুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আজ অদ্যাবধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে সর্বমোট ৫০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের বহির্বিভাগেও (Outdoor) নিয়মিত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে। এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন:

সম্পর্কিত খবর


চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডেঙ্গুর চাপ, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি ১৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২ আগষ্ট ২০২৬ ১৬:০৮ পিএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চাপ বাড়ছে। শনিবার (২২ আগস্ট) পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে হাসপাতালে মোট ৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসাধীন এসব রোগীদের মধ্যে পুরুষ ৩১ জন, নারী ১৯ জন এবং ৮ জন শিশু (যার মধ্যে ৬ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে) রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর লক্ষণ নিয়ে নতুন করে আরও ১৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ০০ জন হাসপাতালটির বহির্বিভাগে শনাক্ত হয়েছেন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই বেশি—২৩ জন পুরুষ, ১৩ জন নারী এবং ৩ জন শিশু (১ জন ছেলে ও ২ জন মেয়ে) ভর্তি হয়েছেন।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ জন রোগী। ছাড়পত্র পাওয়া এসব রোগীদের মধ্যে ১ জন পুরুষ, ৪ জন নারী এবং ১ জন শিশু (০০ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে) রয়েছেন। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ জন নারী রোগীকে রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়েছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে পৌরসভাটির হুজরাপুর, বালুবাগান, পিটিআই, মসজিদপাড়া ও আলীনগর মহল্লা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি রোগী আসছেন। পৌরসভার পাশাপাশি শিবগঞ্জ ও নাচোল উপজেলা থেকেও প্রতিদিন ডেঙ্গু আক্রান্তরা চিকিৎসা নিতে আসছেন।

জেলার চারটি পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের কথা বললেও বাস্তবে তা চোখে পড়ে না নাগরিকদের। তাদের ভাষ্য- শুধুমাত্র হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা দিয়েই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়। প্রয়োজন নিয়মিত কঠোরভাবে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার হুজরাপুর-পাঠানপাড়া এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় ঘরে ঘরে মানুষের জ্বর। ড্রেন ও নর্দমাগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। মশা মারার ওষুধ ছেটানোর কথা শুনলেও বাস্তবে এলাকাতে কোনো কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছি না।

শিবগঞ্জ পৌরসভার ছোটচক এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসা ভালো পেলেও মূল সমস্যা তো বাইরে। মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে দিনের বেলাতেও টেকা যায় না। পৌরসভা থেকে দ্রুত ড্রেন পরিষ্কার ও ওষুধ না দিলে রোগী বাড়তেই থাকবে।নিয়মিত মশক নিধন অভিযান পরিচালনা করা হয়।

২৫০ শয্যার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আরএমও ডা. মো. মাহবুব হাসান বলেন, বৃষ্টিপাতের কারণে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের ডেঙ্গু কর্নার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অন্যান্য উপকরণ মজুত রাখা হয়েছে। চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আজ অদ্যাবধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে সর্বমোট ৫০৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালের বহির্বিভাগেও (Outdoor) নিয়মিত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হচ্ছে এবং বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বহির্বিভাগে মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩১৬ জনে। এছাড়া চলতি বছর এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারো মৃত্যু হয়নি।

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর