ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নতুন দিগন্ত সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট মণিরামপুরে ১৫০ আসনে ভর্তির সুযোগ
দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা ও শিক্ষার্থীদের আধুনিক কারিগরি শিক্ষায় সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়ে যশোরের মণিরামপুরে যশোর সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউটে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমে নতুন তিনটি প্রযুক্তি চালু হচ্ছে। এ উপলক্ষে গতকাল শনিবার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
যশোর সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ভূমি জরিপ শিক্ষার উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) ড. শফিক উদ্দিন।
সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ড. এম এম নজমুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন মণিরামপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম মজনুর রহমান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. মোজাফফর হোসেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনস্টিটিউটের চিফ ইন্সট্রাক্টর মো. সোহরাব হোসেন।
প্রধান অতিথি ড. শফিক উদ্দিন বলেন, ‘আজকের শিক্ষার্থীই আগামী দিনের দেশ গড়ার কারিগর। শুধু সনদ অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের এমন কারিগরি দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যা তাদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে মণিরামপুরের এই প্রতিষ্ঠানকে দক্ষ জনশক্তি তৈরির অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি।’ অধ্যক্ষ ড. এম এম নজমুল হক বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু আসন পূরণ করা নয়; শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান তুলে দিয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। একটি দক্ষ সন্তান একটি পরিবারকে বদলে দিতে পারে, আর হাজারো দক্ষ তরুণ বদলে দিতে পারে দেশের অর্থনীতির চিত্র।’
সভায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে নতুন তিনটি প্রযুক্তি—জিওইনফরমেটিক্স, ফটোগ্রামেট্রি অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং এবং ক্যাডাস্ট্রাল টপোগ্রাফি সার্ভে অ্যান্ড ল্যান্ড ইনফরমেশন টেকনোলজিতে ৫০টি করে মোট ১৫০ শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। পাশাপাশি বর্তমানে সার্ভেয়িং টেকনোলজি এবং ল্যান্ড রিসোর্স সার্ভে অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল টেকনোলজিতে ৫০টি করে মোট ১০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২৫০ আসনে শিক্ষার্থীদের অধ্যয়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ইনস্টিটিউটে আধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ, ছাত্র ও ছাত্রী হোস্টেল এবং লাইব্রেরির সুবিধা রয়েছে। ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে ২২ আগস্ট, চলবে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২৬ সেপ্টেম্বর। ফল প্রকাশের পর ১১ অক্টোবর থেকে ক্লাস শুরুর কথা রয়েছে।
এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত যোগ্যতা সাপেক্ষে আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অ্যাপটিচুড টেস্টে মোট ৭০ নম্বর এবং এসএসসির জিপিএর ওপর ৩০ নম্বর নির্ধারিত রয়েছে।
মতবিনিময় সভায় কুয়াদা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. ওয়াজেদ আলী, মণিরামপুর মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আব্বাস উদ্দিন, রঘুনাথন কলেজের সহকারী অধ্যাপক হুসাইন নজরুল হক, রাজবাড়ী মীর মোশাররফ হোসেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক এম এ রাজ্জাক, মণিরামপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম তালুকদার, মণিরামপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. তছির উদ্দিন, নাগোরঘোপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল মজিদ, বাগডাঙ্গা দোয়াকালাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হামিদুল ইসলাম, খেদাপাড়া পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মফিজুর রহমানসহ জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মূল্যবান মতামত দিন: